আমতলীতে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের টহল

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাবার হোটেল, মাছ-মাংস, কাঁচা বাজার, ফলের দোকান ও ফার্মেসী ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দূরপাল্লা রুটে চলাচলরত সকল যানবাহন ও লঞ্চ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে আমতলী উপজেলার সাথে দূরপাল্লা রুটে চলাচলরত সকল যানবাহন ও যাত্রীবাহী লঞ্চ বন্ধ করে দেয়া, দিনে খাবার হোটেল, মাছ-মাংস, কাঁচা বাজার, ফলের দোকান, ফার্মেসী ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, সন্ধ্যার পরে সকল দোকানপাট ও জনসাধারণকে ঘরে থাকার জন্য উপজেলার সর্বত্র মাইকিং করে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে উপজেলা

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন ও ওসি মোঃ আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ও পৌরশহরের বেশ কয়েকটি স্পটে টহল দিয়ে দোকান পাট বন্ধ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেন।

করোনার কারনে মানুষকে ঘরে থাকার জন্য বলা হলেও তাদের অনেকেই সেই নির্দেশ মানছেন না। আবার অনেক জায়গায় একসাথে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের গাড়ী দেখতে পেয়ে মানুষের মধ্যে ছোটাছুটি ও হুলুস্থলের ঘটনাও ঘটছে। পুলিশ ও নির্বাহী অফিসারের আসার খবর শুনে শহরের মানুষের মধ্যে আতংক কম বিরাজ করলেও গ্রামের বাজারগুলোতে আড্ডা দেয়া মানুষের মধ্যে কিছুটা আতংক বিরাজ করে। এ সময় অনেক এলাকায় পুলিশ দেখে এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। যে যার মত করে দৌড়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে পর থেকে আমতলীর সাথে দূরপাল্লার যানবাহন, গণপরিবহন ও লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হলেও অভ্যান্তরিন রুটে সীমিত আকারে কিছু যানবাহন চলাচল করে।

বুধবার সকালে দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের যানবাহন আমতলীতে এসেছে। এছাড়া রিকশা, অটোবাইক, ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল ও মাহেন্দ্রা গাড়ীর চলাচল ছিল পূর্বেরমত একদম স্বাভাবিক।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যাতে এ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সকল জনসাধারণকে ঘরে থাকতে ও সন্ধ্যার পরে সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন মুঠোফোনে বলেন, মরনঘাতি করোনা ভাইরাসে এ উপজেলায় এখনো কারো আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাইনি। তাই আগাম সতর্কতার জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি।
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে উপজেলার খাবার হোটেল, মাছ-মাংস, কাঁচা বাজার, ফলের দোকান ও ফার্মেসী ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে ও লোকজনকে ঘরে থাকতে বলা
হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নির্দেশ অমান্য করে যদি গণপরিবহন ও দূরপাল্লা রুটের যাহবাহন চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: