জনশূণ্য এলাকায় ভবঘুরে প্রাণীদের পাশে সংগীত শিল্পী পল্লবী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
করোনা ভাইরাসের আতংকে চলমান পরিস্থিতিতে শহরের রাস্তাঘাট প্রায় জনশূণ্য। স্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাগুলো সব বন্ধ। ঘরের ভিতরে থেকে মানুষ কোন না কোন ভাবে খাদ্য সংগ্রহ করছেন। কিন্তু বিপাকে পড়েছেন কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন ধরণের পশুপাখি যাদের খাদ্যের প্রধান উৎস হোটেল ও রেস্তোরায় মানুষের খাবারের নষ্ট অংশটুকু।

নিজের পোশা বিড়ালের কথা চিন্তা করে অন্য সব প্রাণীর জন্য দূর্যোগের এই সময়ে এসব প্রাণীদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে সঙ্গীত শিল্পী পল্লবী রায়। শহরের মন্দিরপাড়া এলাকার ধীরেন্দ্র নাথ রায় ও দীপ্তি রায়ের মেয়ে সে। দুই বোনের মধ্যে বড় সংগীত শিল্পী পল্লবী রায়।
ঢাকায় বসবাস করেন। সখের বসে ঢাকায় পিট্ট্রো নামে একটি বিড়াল কে লালন পালন করে পল্লবী। ঢাকা থেকে ঠাকুরগাওঁ গাড়ীতে করে যতবার আসেন পল্লবী ততবার বিড়ালকে নিজের কোলে বসিয়ে নিয়ে যাতায়াত করেন।

তার ছোট বোন চীনে পড়ালেখা করে বর্তমানের সেখানেই আছে, তার কাছেও একটি কুকুর আছে। ছোট থেকে পশু পাখিকে ভালোবাসেন পল্লবী। ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ি ভিতর একটি ও গেটের বাহিরে দুইটি কুকুর আছে তাদের। সে গুলোকে সার্বক্ষণিক খাবার ও ঔষুধ দেওয়া থেকে শুরু করে সব দেখাশুনা করে তার বাবা মা। অনেক আগে থেকেই রাস্তার কুকুরদের খাওয়ায় তারা। সব মিলিয়ে ওই পরিবারটি প্রাণী প্রেমী।

পল্লবী রায় বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। সেখানে পিট্ট্রো নামে একটি বিড়াল কে লালন পালন করি। কোলকাতায় পড়ালেখা করেছি। সেখানে কথাও কাজে বা ঘুরতে গেলে দোকান থেকে কেক বিস্কুট কিনে খাওতাম কুকুর বিড়ালকে। তারপর দেশে ফিরে ঢাকায় বসবাস শুরু করি। ক্যারিরারের কারণে এবং সেখানে পাউ ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রাণী কল্যাণ সংগঠনের সাথে জড়িত হয়ে আমার মত অনেক মানুষ আছেন যারা প্রাণীদের সত্যি ভালোবাসেন এবং কিছু করতে চান। এই ফাউন্ডেশন এ মাঝে মাঝে ডোনেট করি আবার মাঝে মাঝে সেচ্ছাসেবক এর কাজ করি, সময় সুযোগ মত যুক্ত হয়। তাদের কাজ গুলো আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করে সেই সব কাজ করতে যেগুলা আমি সারাজীবন মনে মনে করতে চেয়েছিলাম অথবা যেগুলা আমি অলরেডি করি সেই কাজ গুলোর পক্ষে সহাবস্থান করে এমন মানষিক সাপোর্ট পাই। আর এখন সারা পৃথিবী জুড়ে কঠিন দূর্যোগ চলছে মানুষের জন্য এবং মানুষের উপর নির্ভশীল আমাদের আসে পাশের প্রাণী গুলোর যেমন কুকুর বিড়ালের জন্যেও।

বন্য প্রাণী দের মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না , মানুষ যদি তাদের বিরক্ত না করে তাদের বাসস্থান ধ্বংস না করে সেটাই বরং ওদের জন্য ভালো। মানুষের জন্য মানুষ আছে ,কেউ না কেউ পাশে এসে দাঁড়াবেই, কেউ না থাকলে সরকার আছে, সরকার না থাকলে বিশ্বের অনেক সংগঠন আছে যারা মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে।

কিন্তু আমাদের বন্ধু এই প্রাণী গুলোর জন্য অল্প কিছু মানুষ ভাববে, যদিও কুকুর বিড়াল, কাক সবাই আমাদের প্রতিবেশী এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। তাই এই গভীর সংকট কালে আমি ভালোবাসার টানে ওদের খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারণ রাস্তার কুকুর, বিড়াল গুলোর খাদ্যের প্রধান উৎস ছিল হোটেল ,রেস্টুরেন্ট, মাছ-মাংসের দোকান।

এইসব এখন বন্ধ থাকায় তারা না খেয়ে দিন যাপন করছে। কিন্তু না খেয়েও তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকই পালন করে যাচ্ছে, এলাকা পাহাড়া দিচ্ছে তারা। এইসব ভেবে আমার বাবা মা আমাকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। মা হোমিও চিকিৎসক ,বাবা বিএডিসিতে চাকুরি করে, সঙ্গত কারণেই তারা এখন বাসায় অবস্থান করছে। মা রান্না করে আর বাবা প্যাকেজিং করে দিচ্ছে। আর আমি বিভিন্ন এলাকায় কুকুর, বিড়াল ও পাখিদের খাওয়াচ্ছি। আমি চাই এই সময় মানুষ মানুষের পাশে যেভাবে দাঁড়াচ্ছে প্রাণীদের পাশেও তেমনি ভাবে দারাক প্রাণীদের খুশি করতে খুব বেশি কিছু লাগে না দুই টি রুটি দিলেও তারা অনেক খুশি হয়। সবারই ওদের নিয়ে ভাবা উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী।

গত ২৭ মার্চ থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। যতদিন ঠাকুরগাঁওয়ে আছি পুরো সময় টা আমার আশপাশের এলাকার গুলাতে খাবার দিব নিজের অর্থায়নে। তবে পুরো ঠাকুরগাঁতে দেওয়া আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাই যদি নিজের এলাকার প্রাণীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করি তা হলে ভাল হয়। প্রাণী কল্যাণে কাজ করতে চায় এমন গ্রæপ বানানো যায় কিনা ঠাকুরগাঁওয়ে তা নিয়ে ভাবছি।

ঢাকায় এমন অনেক গ্রপ আছে ,তারা বিভিন্ন এলাকা কভার করছে। কুকুর বিড়াল খুঁজে খুঁজে খাওয়াচ্ছে তারা। অনেকেই খাবার না হয় টাকা ডোনেট করছে যারা নিজেরা বের হতে পারছে না। আমি ঠাকুরগাঁওয়ে আসার আগের দিন ১০ কেজি ভাত মুরগি সিদ্ধ রান্না করে সেই খাবার ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে ঢাকা ইউনভার্সিটির বিভিন্ন হলের কুকুরদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে এসেছি। আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের কুকুর গুলোর অবস্থা করুন।

কারণ এখানে এমন প্রাণী কল্যাণ সংগঠন বা এই নিয়ে কাজ করার মানুষ কম বা নেই বললেই চলে। এইসময় মানুষের জন্য সবাই চিন্তা করছে, প্রাণীদের জন্য খুব কম সংখ্যক মানুষ ভাবছে। আরও বেশি বেশি মানুষ ভাবুক ওদের কে নিয়ে সেটাই আমার প্রত্যশা।

ঠাকুরগাঁও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে ভবঘুরে প্রাণীদের খাদ্যের সকল উৎস বন্ধ। তারা অনেক কষ্টে দিন পার করছে। সঙ্গীত শিল্পী পল্লবী রায় যে কাজটি শুরু করেছেন তা সত্যি অনেক প্রশংসনীয়। আশা করি তার দেখে অন্যরাও এগিয়ে আসবেন। কুকুর, বিড়ালের মাধ্যমে করো ভাইরাস ছড়াই না সে জন্য তাদের কাছে গেলেও কোন সমস্যা নেই।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: