নীরবতা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে

অনলাইন ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের প্রভাবে তালাবদ্ধ রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কোনো নেতাকর্মীর আনাগোনা নেই রাজধানীর নয়াপল্টনের এই অফিসে। টানা ৭২৬ দিন কার্যালয়ে অবস্থানের পর গত বৃহস্পতিবার কার্যালয় ছেড়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও নিজ বাসায় ফিরে গেছেন। এখন শুধু তিনজন কর্মকর্তা আর কর্মচারী রয়েছেন সেখানে। খুব প্রয়োজন না হলে তারাও বাইরে বের হন না। নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে কোলাহল আর নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত বিএনপি কার্যালয়ে এখন নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। এতদিন রুহুল কবির রিজভী থাকায় তাকে ঘিরে হলেও কিছু নেতাকর্মী কার্যালয়ে যেতেন, রাজনৈতিক আড্ডা দিতেন কিংবা দলীয় কার্যক্রম নিয়ে কথাবার্তা বলতেন। অনেক সময়ে দুপুরে খাবারের সময় সেখানে জড়ো হতেন অনেক নেতাকর্মী। সারাদেশ থেকেও বিক্ষিপ্তভাবে অনেক নেতাকর্মী আসতেন কার্যালয়ে। কিন্তু এখন আর কেউ আসেন না। করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর যোগাযোগ-পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকায় বিভিন্ন জেলার যেসব নেতাকর্মী অবস্থান করছেন, তারাও ভেতরে কেউ নেই জেনে কার্যালয়ের বাইরে থেকেই ফিরে যাচ্ছেন।

শুক্র ও শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে একজন নিরাপত্তা প্রহরী বসে আছেন। জসিম নামের ওই প্রহরী সমকালকে জানান, কোনো নেতাকর্মীই আর কার্যালয়ে আসছেন না। তার জানামতে, আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এভাবেই চলবে। ওই দিন পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নেতাকর্মীরা হয়তো আর আসবেন না। তাই কার্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য মূল ফটকে তালা মেরে রাখা হয়েছে। তবে যে কেউ এলে খুলে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘রিজভী স্যার চলে যাওয়ার পর দলের কোনো নেতা কার্যালয়ে আসেননি।’

কার্যালয়ের মধ্যে রয়েছেন কর্মকর্তা রেজাউল, শামীম ও রফিক। শামীম জানান, করোনাভাইরাসের কারণে নেতাকর্মীরা সাময়িকভাবে কার্যালয়ে আসছেন না। কার্যালয়ে শুধু তারা তিনজন রয়েছেন। জরুরি কোনো কিছু দরকার হলে বাইরে যান; কেনাকাটা করেন।

বিএনপি নেতারা তাদের খোঁজখবর রাখছেন কিনা; জানতে চাইলে শামীম বলেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভীসহ দপ্তরের প্রত্যেকেই মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, সারাবিশ্বেই এখন করোনাভাইরাসের কারণে সবাই সতর্ক। তারাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন। তবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। জরুরি প্রয়োজনে কার্যালয়েও যাচ্ছেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: