বেতাগীর সাধারণ মানুষ করোনা ভাইরাসে সচেতন নয় ‘মোরা আছি পেটের ধান্ধায়’

শফিকুল ইসলাম ইরান,বেতাগী(বরগুনা)প্রতিনিধি:
‘মোরা আচি পেটের ধান্ধায়, করোনাইদা মোরা করমু কি ? কাজ বাজ করে খাই, মোগো খাওন দেবে কেডা।

একথা কথাগুলো বলছিলো উপজেলার কেওড়াবুনিয়া গ্রামের ষাটোর্দ্ধ দিনমজুর মো. সাহেব আলী সিকদার। তিনি জানেনা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সচেতনতা সম্পর্কে। প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপের সারাদেশের ন্যায় বরগুনার বেতাগীতেও বিভিন্ন প্রচারণা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হলেও গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সচেতনতার অভাবে ছড়িয়ে পড়ছে গুজব । মানুষজনের মধ্যে কাজ করছে উৎকণ্ঠা। ফলে করোনা ভাইরাসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে এ উপকুলীয় জনপদের গ্রাম পর্যায়ের দিনমজুর খেটে খওয়া মানুষ । করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হলেও জনসমাগম থামানো যাচ্ছে না।

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,‘ এ উপজেলার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কে ১০৮ জন এসেছে। এদের মধ্যে ৭০ জন হোম কোয়াইন্টেরেনে রয়েছে এবং বাকি ৩৮ জন এলাকার বাহিরে রয়েছে।’ হাটে বাঁজারে দেদারছে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিদেশ থেকে আশা এসব মানুষ।

এমনকি বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। খোদস্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকদের সুরক্ষায়ও নেই কোন ব্যবস্থা।

দিকে নোভেল করোনা ভাইরাস আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলা প্রশাসন,স্বাস্থ্য বিভাগ ও থানা পুলিশের উদ্যোগে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে করোনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ, আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি, গুজব সমর্পকে বিরত থাকতে সতর্কতা, হ্যান্ড সেনিটাইজার, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরামর্শ প্রদান, হোম কোয়ারেনটাইনে থাকা ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক ফলোআপসহ নানা সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে (২৪ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেল, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, থানা পুলিশ স্টেশন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পৌরসভাসহ গুরুত্বপুর্ন অফিসগুলোতে আগন্তুক লোকদের বাধ্যতামূলকভাবে হাত ধুয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা চালু করছে। তারপরেও এখনকার গ্রামের অনেক মানুষের মাঝে অনুজীব করোনা ভাইরাস সংক্রমনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার তেমন কোন ধারনা নেই।

উপজেলার ঝোপখালী গ্রামের দিনমজুর মোতালেব (৪৫) জানান, ‘আমি কাজ বাজ করে খাই। কি রোগ তাতো কারও কাছে হুনি নাই। ওয়াতে আমার দরকার নাই। আমি আছি পেটের ধান্ধায়। ’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. তেং মং বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এখানে কারোর মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে তেমনটা দেখা গেলে রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে

(আইইডিসিআর) পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা করে রাখার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বাইরে শয্যা প্রস্তত করা হয়েছে। তাছাড়া হোম কোয়ারেনটাইনে থাকা ব্যক্তিদের আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। তারা ভালো আছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাজীব আহসান বলেন,‘ করোনা প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা তৈরিতে লিফলেট ও মাস্ক(মুখোশ) বিতরণ সহ নানা সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: